রংপুরের মিঠাপুকুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রা শুরু করেছিল ‘মিঠাপুকুর ইকোপার্ক’। সাবেক সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান ২শ ২৬ একর বিশাল এলাকা জুড়ে এই পার্কটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তবে উদ্বোধনের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও পার্কটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে চালু হয়নি। অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার অভাবে এটি এখন নামেই কেবল ইকোপার্ক, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
শাল্টিগোপালপুর রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন এই পার্কটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে চরম হতাশা। বিশাল আয়তনের এই এলাকাটি পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনাময় হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে পার্কটি তার আকর্ষণ হারাচ্ছে।
পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা শেড।
শিশুদের খেলার কোনো সামগ্রী বা বিনোদনের কোনো রাইড নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় এটি উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আশার আলো দেখালেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এটি এখন পরিত্যক্ত ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "আমরা ভেবেছিলাম এখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জায়গা হবে, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে এখন এটি কেবল কাগজে-কলমেই পার্ক রয়ে গেছে।"
মিঠাপুকুরের এই বিশাল সম্পদকে রক্ষা করতে এবং একে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল। অন্যথায়, মিঠাপুকুরবাসীর এই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন