​মিঠাপুকুরে বোরো চারার তীব্র সংকট: পন প্রতি দাম ১০০০-১২০০ টাকা, দিশেহারা কৃষক!



​রংপুরের মিঠাপুকুরে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোপণ মৌসুম শুরু হলেও পর্যাপ্ত চারা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
​স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অধিকাংশ কৃষকই নিজেদের জমিতে রোপণের জন্য পর্যাপ্ত চারা তৈরি করতে পারেননি। যারা চারা উৎপাদন করতে পেরেছেন, তাদের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে চাহিদার তুলনায় চারার সরবরাহ নেই বললেই চলে।

​আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলার ১১নং বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকজন বিক্রেতা বোরো চারা নিয়ে এসেছেন। চাহিদার তুঙ্গে থাকায় চারার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
জাতভেদে প্রতি পন (৮০টি চারা বা মুঠি) বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

বাজারে চারা কিনতে আসা কৃষকরা এই চড়া মূল্য দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেককেই দীর্ঘক্ষণ দরদাম করে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে। আবার যারা রোপণ শুরু করেছেন, তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে অল্প পরিমাণে চারা সংগ্রহ করছেন।

​বাজারে চারা কিনতে আসা এক কৃষক জানান, "বীজতলার সব চারা শীতে শেষ হয়ে গেছে। এখন বাজারে এসে দেখছি চারার দাম আগুনের মতো। এক পন চারা ১০০০ টাকা দিয়ে কেনা আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে অসম্ভব। চারা না পেলে জমি পড়ে থাকবে।

​কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে এবং চারার সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চড়া মূল্যে চারা কিনে ধান চাষ করে শেষ পর্যন্ত কৃষকরা কতটা লাভবান হতে পারবেন, তা নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন