সংবাদ শিরোনাম

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—স্লোগান নয়, চাই বাস্তব রূপায়ণ



​যাদের হাতের ছোঁয়ায় মাটি থেকে সোনা ফলে, যাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে আমাদের থালায় অন্ন জোটে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে তারা দিনরাত মাঠে কাজ করে যান। তাদের তৈরি ফসল দেশের প্রতিটা ঘরে পৌঁছে যায়, জীবনের রসদ জোগায় সকল স্তরের মানুষকে। এক কথায়, কৃষকের মেহনতের সুবিধা ভোগ করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

​অথচ কী অদ্ভুত বৈপরীত্য! যে কৃষকের কারণে গোটা দেশ বেঁচে থাকে, সেই কৃষকের ন্যায্য পাওনা ও অধিকারের বেলায় পুরো সমাজ যেন অন্ধত্ব বরণ করে নেয়।

ফসলের সঠিক দাম না পাওয়া আমাদের দেশে এক নির্মম বাস্তবতা। হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে কৃষক যা পান, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ গুটিয়ে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা।

কৃষকের লোকসান হলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে সামান্য সাহায্য বা সহানুভূতি পেলেও, তাদের সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে কেউ এগিয়ে আসে না।
আমরা কৃষকের উৎপাদন ভোগ করি তৃপ্তি ভরে, অথচ কৃষককে সমাজের উপযুক্ত সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে কুণ্ঠাবোধ করি।
​
​কৃষকের মেহনতকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এ কথা শুধু মুখে না বলে বাস্তবায়নে দেখাতে হবে।

​
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের কাছে সরাসরি উপযুক্ত মূল্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

কৃষককে কেবল সহানুভূতির পাত্র না ভেবে, তাদের উৎপাদক ও দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে সম্মান করা উচিত।

কৃষকের প্রতি সমাজের এই অন্ধত্ব কাটিয়ে উঠে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

যে হাত আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়, সেই হাত যেন আর বঞ্চনার শিকার না হয়। কৃষকের প্রতি এই উদাসীনতা ও অন্ধত্ব ভেঙে তাদের ন্যায্য পাওনা ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন