রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষিতে যোগ হয়েছে দুটি নতুন ও লাভজনক ফল-আঙুর এবং আনার। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নতুন জাতের এই ফল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। বর্তমানে ময়েনপুর ইউনিয়নের শিকারপুর ও কষবা এলাকায় গড়ে ওঠা এই বাগানগুলো ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ময়েনপুর ইউনিয়নে দুটি পৃথক বাগান আধুনিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হয়েছে।
আঙুর বাগান : এখানে চাষ হচ্ছে উন্নত মানের 'ভ্যালেন সিয়া' এবং 'গ্রীন লং' জাতের আঙুর। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ আঙুর এখন দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ।
আনার বাগান: এই বাগানে চাষ করা হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল 'জিএম-২' এবং 'ভাগোয়া' জাতের আনার। মাটির গুণাগুণ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলের আকার এবং গুণমান বেশ চমৎকার হয়েছে।
চারা বিক্রি ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি :
কেবল ফল নয়, বাগান মালিকরা এখন চারাও উৎপাদন ও বিক্রি করছেন। নতুন এই উদ্যোগ দেখতে এবং চাষাবাদ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটক ও উৎসুক কৃষক ভিড় জমাচ্ছেন। এতে এলাকাটি কৃষি পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি ও পরামর্শ :
এই সফলতার পেছনে সরাসরি ভূমিকা পালন করছেন মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লোকমান হেকিম নিলয়। তিনি নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় চাষ পদ্ধতি ও উৎপাদিত ফল বাজারজাতকরণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এই উদ্যোগে তার সাথে নিরলসভাবে কাজ করছেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জনাব সালাউদ্দিন।
তবে এই দুই বাগান গড়ে তোলার পেছনে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শ্রম ও মেধা দিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম। তার সার্বক্ষণিক তদারকি এবং কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ফলেই আজ মিঠাপুকুরের মাটিতে বিদেশি এসব ফল হাসছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লোকমান হেকিম নিলয় জানান, আমাদের আবহাওয়া ও মাটি এসব ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি যাতে তারা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেন। মিঠাপুকুরের এই বাগানগুলো দেখে অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ফল আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
মিঠাপুকুরে আঙুর ও আনারের এই ফলন আগামীতে রংপুরের কৃষি অর্থনীতিতে এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন