সংবাদ শিরোনাম

তেল নিয়ে তেলেসমাতি: সংকট নাকি পরিকল্পিত লুণ্ঠন?



দেশের সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন দীর্ঘ লাইন। চাল-ডাল থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সবকিছুর দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট। প্রশ্ন উঠেছে, এই সংকট কি আসলেই সরবরাহের ঘাটতি, নাকি অসাধু সিন্ডিকেটের সুনিপুণ এক “সাজানো খেলা”?


◾​হিসাব যখন অমিল :
​সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা আগের মতোই স্বাভাবিক থাকে, তবে পাম্পগুলোতে গিয়ে তেল মিলছে না কেন? যুক্তি খুব সহজ-যদি ইনপুট (সরবরাহ) ঠিক থাকে এবং আউটপুট (বিক্রি) হঠাৎ কমে যায়, তবে মাঝপথে কোথাও তেল আটকে আছে। প্রতিটি তেল পাম্প আগে কোন ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিপো থেকে কত লিটার তেল নিত, আর এখন কত নিচ্ছে-এই তুলনামূলক ডাটা টেবিল করলেই “থলের বিড়াল” বেরিয়ে আসবে।


◾সিন্ডিকেটের পুরনো চাল :
​বাস্তবতা হলো, দেশের জ্বালানি বাজার এখন গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ী ও পাম্প মালিকদের কাছে জিম্মি। তাদের কৌশলী খেলাটি বেশ পুরনো কিন্তু ভয়ংকর কার্যকর:
​কৃত্রিম অভাব: সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বাজারে হাহাকার সৃষ্টি করা।

​মজুদদারি: ডিপো থেকে তেল তুলে পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে জমিয়ে রাখা।

​অধিক মুনাফা: সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোগান্তি চরমে তুলে পরে গোপনে চড়া দামে বিক্রি।
​এই চক্রটি সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নিজেদের সিন্দুক ভারি করছে। অথচ প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে।

◾​ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি :

​এই অরাজকতা বন্ধ করার জন্য কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম। তেলের প্রতিটি লিটার ডিপো থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে পাম্পের নজেল দিয়ে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত ডিজিটাল তদারকির আওতায় আনতে হবে। যেসব পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

◾ ​শেষ কথা :
​সরকার যদি এখনই এই সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন না করে, তবে জনগণের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হবে যে এই বিশৃঙ্খলার পেছনে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, বরং নেপথ্যে প্রভাবশালী কোনো মহলের মদদ রয়েছে। সাধারণ মানুষ আর বোকা নয়; তারা দেখছে কীভাবে তাদের ভোগান্তিকে পুঁজিতে রূপান্তর করা হচ্ছে।

​সময় এসেছে চোখ খুলে তাকানোর। রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি বজায় রাখতে এই “তেলেসমাতি” বন্ধ করা সরকারের এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।


মোঃ সুজা উদ্দিন 
অ্যাডমিন : ছড়ান নিউজ২৪


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন